১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেনাজ হুমায়রাকে নিয়োগ গেজেট থেকে বাদ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তিনি ইবির আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে লিখিত পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মোট ১০২ জনকে বিচারক পদে সুপারিশ করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন। প্রায় ১০ মাস পর ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ গেজেটে দেখা যায়—মোট ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর কোনো ধরনের কারণ উল্লেখ না করেই বাদ পড়েছেন মেহেনাজসহ ১৩ জন।
বাদ পড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন— তানসেনা হোসেন মনীষা (রাবি), নিশাত মনি (ঢাবি), নাহিম হাসান (ঢাবি), মো. রেজাউল ইসলাম (ঢাবি), অনিক আহমেদ (রাবি), মাহমুদুল ইসলাম মুন্না (রাবি), সাদিকুর রহমান (গোবিপ্রবি), মামুন হোসেন (জবি), সাইমন সৈয়দ (চবি), সাজ্জাদুল হক (ঢাবি), গগন পাল (রাবি), সুব্রত পোদ্দার (ববি)।
প্রার্থীদের অভিযোগ, তাদের কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্ক, ফৌজদারি মামলা বা আপত্তিকর কোনো তথ্য নেই। তারা মেধা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই সুপারিশ পেয়েছেন। জুলাইয়ের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পর গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে “বাছাই” করে বাদ দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। একই ধরনের রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও যেখানে ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাকি ১৩ জনের জন্য ‘রি-ভেরিফিকেশন’ প্রয়োগ করাকে তারা বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।
ইবির শিক্ষার্থী মেহেনাজ হুমায়রা বলেন, “আমার এবং আমার পরিবারের কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি ইবির খালেদা জিয়া হলে থাকতাম—সেখানে মেয়েদের রাজনীতি করার পরিবেশই ছিল না। সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তবু আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তা জানি না। মনে হচ্ছে আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই গোয়েন্দা রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দূর–আত্মীয় কেউ রাজনীতি করলেও তার দায় কেন আমাদের ওপর বর্তাবে? ১০২ জনের মধ্যে মাত্র ৮৮ জনকে গেজেট দেওয়া হলো কোন প্রক্রিয়ায়? বাকি ১৩ জনকে বাদ দেওয়ার স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত ব্যাখ্যা আইন মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই দিতে হবে।”
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, “অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি হওয়ায় নিচের স্তরে কর্মকর্তা প্রয়োজন। এজন্য দ্রুত যাদের রিপোর্ট এসেছে তাদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রার্থীরা ১৫–৩০ দিনের মধ্যে যোগ দিতে পারবেন; তাদের সিনিয়রিটিও নষ্ট হবে না। তবে যাদের গেজেট প্রকাশিত হয়নি, এ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। তাদের বিষয়ে একটি প্রেস নোট দেওয়া উচিত—রবিবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাবো।”
মুক্তিসরণি/এমএস
ইবি প্রতিনিধি