নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্রমেই তাদের কর্তৃত্ব প্রদর্শন শুরু করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, সম্প্রতি দুটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে এই আচরণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় কলেজ ছাত্রাবাসে গান বাজানোর ভলিউম কমাতে বলায় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ায়েজ করনী মারধরের শিকার হন। এই হামলার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ অপু। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের হুমকি দিতে শুরু করেন। ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি ও কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওয়ায়েজ করণীর অভিযোগ, “আমি শুধু ভলিউম কমানোর জন্য বলেছিলাম, কিন্তু অপু আমাকে কলার ধরে লাথি দেয়।”
এর আগেও কলেজে আয়োজিত একটি উদ্যোক্তা সম্মেলনে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অপমান করে বের করে দেন। ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ওই সময় বলেন, “যে হাসিনাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিল, সেই দোসর আমাদের কলেজে আসবে, আমরা তা মেনে নিতে পারি না।” যদিও ঘটনার পর ছাত্রদলের সভাপতি স্বীকার করেছেন, “আবেগপ্রবণ হয়ে তাকে কলেজ থেকে চলে যেতে বলেছি। সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে এই ধরণের আচরণ কাম্য নয়। আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”
নিন্দিত শিক্ষার্থীরা বলছেন, “তোলারাম কলেজ ছাত্রদল ক্রমেই ছাত্রলীগের রূপ ধারণ করছে। তারা ছাত্র সংসদ কক্ষ দখল করে দলীয় কাজে ব্যবহার করছে এবং তা ভিডিও হিসেবে প্রচার করছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ছাত্রদল এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষমতার চর্চা করছে, যা হতাশাজনক।”
এতে স্পষ্ট হচ্ছে, কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ছাত্রদলের এই আচরণ সমন্বয়হীন ও সহনীয় নয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এই ধরনের আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, না হলে আরও তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিতে পারে।
মুক্তিসরণি/এমএস
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি