নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দলের নির্বাহী কাউন্সিল বৈঠক চললেও ‘তৃতীয় জোট’ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূলত জোটে যাওয়া ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও দুই উপদেষ্টার অনুসারী অংশের তীব্র আপত্তির কারণেই এই উদ্যোগ থেমে গেছে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাহী কাউন্সিলের বেশিরভাগ সদস্য নতুন জোটে যাওয়ার বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে সরকারে থাকা এনসিপির দুই উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের অনুসারীরাই জোটে না যাওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। তারা স্পষ্ট জানান, সম্ভাব্য জোটে যদি এনসিপি ছেড়ে গিয়ে গঠন করা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’—অংশ নেয়, তাহলে সেই জোটে যাওয়া কোনওভাবেই মেনে নেবেন না।
দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির ভেতরে দুটি পথে এগোনোর দ্বন্দ্ব চলছিল—বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হওয়া নাকি এবি পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জেএসডি ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে নতুন একটি তৃতীয় জোট গঠন করা। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা তৃতীয় জোটের পক্ষে থাকলেও উপদেষ্টাদের অনুসারীরা বিএনপি-ঘেঁষা অবস্থানেই দৃঢ় থাকেন। ফলে কাউন্সিল বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই বৈঠকের মাঝেই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আব্দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া কর্মসূচির ডাক দেন। এনসিপির ছাত্রসংগঠনের নেতারা সেই কর্মসূচিকে সমর্থন জানান—যা দলের তরফে বিএনপিমুখী অবস্থানের একটি আরও দৃশ্যমান ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
জোট গঠন নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হওয়ায় নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনেও হাজির হননি এনসিপি নেতারা। দলীয় সূত্র বলছে, নেতৃত্বের বিভাজন ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আপাতত নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ স্থগিত করে রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ, দুই উপদেষ্টার অনুসারীদের চাপ এবং সম্ভাব্য জোটে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিয়ে আপত্তি—এই তিন কারণেই থেমে গেছে ‘তৃতীয় জোট’ গঠনের উদ্যোগ।
মুক্তিসরণি/এমএস
নিজস্ব প্রতিবেদক