ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
ad728
দেশে সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয় নয়—এ মুহূর্তে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই মত দেন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ভূতত্ত্ববিদ, আবহাওয়াবিদ ও গবেষকরা।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না, আবার কোনো অবৈজ্ঞানিক পদক্ষেপও নিতে চাই না। স্বল্পতম সময়ে সরকারকে করণীয় সম্পর্কে লিখিত সুপারিশ দিন—সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।” তিনি জানান, ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও একটি বা একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের কাজ ইতোমধ্যেই চলছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্প নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভয়াবহ গুজব ছড়ানো হচ্ছে—৪৮ ঘণ্টা বা ১০ দিনের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় কেউ বলতে পারে না; তবে সম্ভাব্য উৎস, অতীতের কম্পন ও শেকিং লেভেল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি জোরদার করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা নয়, তবে প্রস্তুতির ঘাটতি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার তরুণদের সম্পৃক্ত করে চার স্তরে প্রস্তুতি পরিকল্পনা—ইনডোর, আউটডোর, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—সবার কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দেন। চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এমআইএসটির অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন বলেন, আতঙ্ক নয়—মানুষকে মাথা ঠান্ডা রেখে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে, কোথায় জমায়েত হওয়া যায়, কী মহড়া প্রয়োজন—এসব সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে। বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মহড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, সফটওয়্যার ব্যবহার করে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবনের ফাটল মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার অধিকাংশই পার্টিশন দেয়ালে।

সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়—বিশেষজ্ঞদের লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে সরকার দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করবে এবং জরুরি করণীয় নির্ধারণ করবে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতেও গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা।

মুক্তিসরণি/এমএস