প্রিন্ট এর তারিখঃ May 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং
১৩ দফা দাবিতে নোবিপ্রবি প্রশাসনকে শিবিরের স্মারকলিপি

ছাত্রসংসদ নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণসহ ১৩ দফা দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোবিপ্রবি শাখা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান এবং রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসেন চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন সংগঠনের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি শিবির সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি আরিফুর রহমান সৈকতসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন, আবাসন সংকট সমাধান, পরিবহন ব্যবস্থা, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন, লাইব্রেরি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উপাসনালয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সেন্টার, জিমনেশিয়াম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা– এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অতীত শাসনামলে দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিবাদী মনস্তত্ত্বের চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতির ভয়াবহতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে। দলীয় রাজনীতির প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রকৃত শিক্ষা ও গবেষণার বাইরে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তাই ‘বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস’ গড়ে তুলতে মৌলিক সংকট চিহ্নিত করে দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় সংগঠনটি।
এ বিষয়ে শিবির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা বিবেচনায় আমরা যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “স্মারকলিপি যে কেউ দিতে পারে, তবে রাজনৈতিক ব্যানারে না দিলেই ভালো। আমরা শিগগিরই ‘কেমন রাজনৈতিক পরিবেশ চাই’—এ বিষয়ে মতবিনিময় করব। ২০২৬ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিধিনিষেধ উঠে গেলে ছাত্রসংসদ নিয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় কিছু কাজ সামনে রয়েছে, তাই বিষয়গুলো সময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে।”
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি