প্রিন্ট এর তারিখঃ May 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 28, 2025 ইং
মার্কিন হেফাজত শেষে দেশে ফিরলেন ৩৯ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্র আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ব্র্যাক তাৎক্ষণিক সহায়তা ও পরিবহন সুবিধা প্রদান করে।
ফেরত আসা ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জনের বাড়ি নোয়াখালী। এছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের দু’জন করে এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীর একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মোট ১৮৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, ফেরত আসাদের মধ্যে ৩৪ জন বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তারা। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দু’জন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে এবং তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অবস্থানের আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান প্রশ্ন তোলেন, “সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিলো, তখন তারা ব্রাজিল না যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে সরকার বা এজেন্সিগুলোর কোনো নজরদারি ছিল কি?” তিনি আরও বলেন, “৩০–৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করে যারা শূন্য হাতে ফিরলেন—এর দায় অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও অনুমোদনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”
ফেরত আসা যাত্রীদের বরাত দিয়ে বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এর আগে যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল তাদের হাত-পায়ে শিকল পরানো হয়েছিল; তবে এবার সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিককে দ্রুত ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
চলতি বছরের ৮ জুন ৪২ বাংলাদেশিকে এবং মার্চ-এপ্রিলে অন্তত ৩৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২০–এর বেশি।
মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আশ্রয় আবেদন বাতিল হলে আইসিই দ্রুত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক সময়ে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইট ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি