প্রিন্ট এর তারিখঃ May 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 29, 2025 ইং
শামীম ওসমানের কর্মী এখন কৃষকদল নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করা মো. আসাদ নামের এক ব্যক্তি। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে ভোট চেয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের সময় এই আসাদই পুলিশকে তাদের বাড়িঘর চিনিয়ে দিতে সহযোগিতা করতেন। অথচ বর্তমান রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর সেই আসাদই খোলস বদলে এখন বিএনপিতে যোগ দিয়ে হয়েছেন থানা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক!
গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আসাদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলতে চান। তার চাওয়ার প্রেক্ষিতে সরাসরি বক্তব্য নিতে ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ যান মুক্তিসরণির নিজস্ব প্রতিবেদক। এরপর আসাদ ওই প্রতিবেদককে ডেকে নেন সুগন্ধা প্লাস নামক একটি রেস্ট্রুরেন্টের দোতলায়। আসাদের ডাকে পরক্ষণেই সেখানে হাজির হন স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আরও দুজন। এরপর তিনজন মিলে মুক্তিসরণির প্রতিবেদককে নানা বিষয়ে জেরা করতে থাকেন। জানতে চান বাড়ির ঠিকানা এমনকি বাবার নাম পর্যন্ত। আসাদের ডাকে ছুটে আসা দুজনের মধ্যে কাদেরী নামে একজন স্থানীয় শীতলক্ষ্যা পত্রিকায় কাজ করেন বলে জানা গেছে। অপরজনের নাম ফিরোজ। ফিরোজকে স্থানীয় ডান্ডিবার্তা নামক একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় করান আসাদ।
এরপর এক পর্যায়ে বেশ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন আসাদের সহযোগি ফিরোজ। আচরণে স্পষ্ট হয়, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তাদের সাথে ১৬ বছর চলেছি, এখন বিএনপি করি। পারলে আমার নামে নিউজ করে দাও।
ফিরোজ নামের ওই ব্যক্তি আরও বলেন, 'শাহ্ নিজামকে চিনো? সে আমার বন্ধুর ছোটো ভাই। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খোকন সাহাকে চিনো? অ্যাড. ওয়াজেদ আলী খোকন কে চিনো? হ্যারা আমার ভাই। হ্যাগো লগে আমি চলছি ১৬ বছর। তুমি আমার নামে নিউজ কইরা দেও। এহন আমি কি করি জানো? এহন আমি বিএনপি করি। তুমি আমার নামে একটা নিউজ কইরা দেও। নেও একটা ছবি তোলো। ছবি তোলো একটা...’
তবে ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল জানিয়েছেন, তার পত্রিকায় ফিরোজ নামে কেউ কর্মরত নেই। বরং ওই ব্যক্তির সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘটনার একপর্যায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসার সময় আসাদ মুক্তিসরণির প্রতিবেদককে টাকা দেওয়ারও চেষ্টা করেন, যা প্রতিবেদক প্রত্যাখ্যান করেন।
কৃষকদলে আসাদের পদপ্রাপ্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরুন্নাহার। তিনি বলেন, ‘এই আসাদ আওয়ামী লীগের হয়ে আমাদের ঘরবাড়ি দেখিয়ে দিয়েছে, আর এখন কৃষকদলে নেতা! আমরা তার বহিষ্কার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সভাপতি এনামুল হক স্বপন বলেন, ‘আসাদ আওয়ামী লীগ করতেন—এটা আমি জানি না। কেন্দ্র থেকে তার জন্য সুপারিশ ছিল, সে কারণেই কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করবো।‘
মহানগর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহামুদ ফয়সালও একই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আসাদের বিষয়ে আমাদের কাছে সুপারিশ ছিল। তবে অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।‘
মুক্তিসরণি/এমএস
© মুক্তিসরণি